উমনপুর জামে মসজিদে নতুন সাইনবোর্ড।
উমনপুর জামে মসজিদ (আরবি: مَسْجِد جَامِع, ফার্সি: مسجد جامع) একটি ইসলামী উপাসনালয়, যা সাধারণত কোনো এলাকার প্রধান মসজিদ হিসেবে পরিচিত। 'জামে' শব্দটি আরবি 'জামি' (جَامِع) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ 'একত্রিত করা'। মসজিদ, যা আল্লাহর ঘর হিসেবে পরিচিত, মুসলমানদের ইবাদত করার কেন্দ্রস্থল। এখানে মুসল্লিরা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ, তারাবিহ, ঈদের নামাজসহ বিভিন্ন ইবাদত পালন করেন। মসজিদে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ পাওয়া যায়।
মসজিদে ইবাদতের ফজিলত:
-
আল্লাহর সন্তুষ্টি: মসজিদে ইবাদত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম উপায়। হাদিসে এসেছে, 'যে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে, আল্লাহ তার প্রতি এতটাই আনন্দিত হন, যেমন প্রবাসী ব্যক্তি তার পরিবারে ফিরে এলে তারা তাকে পেয়ে আনন্দিত হয়।'
-
ফেরেশতাদের দোয়া: মসজিদে অবস্থানকারী ব্যক্তির জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার সালাতের স্থানে থাকে, তার অজু ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত ফেরেশতারা এই বলে দোয়া করে: হে আল্লাহ, আপনি তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ, আপনি তাকে রহম করুন।'
মসজিদে ইবাদতের আদব ও শিষ্টাচার:
-
পবিত্রতা রক্ষা: মসজিদে প্রবেশের আগে অজু করা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা আবশ্যক।
-
প্রবেশের দোয়া: মসজিদে প্রবেশের সময় 'আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রাহমাতিক' (হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন) দোয়াটি পড়া সুন্নত।
-
তাহিয়্যাতুল মসজিদ: মসজিদে প্রবেশের পর বসার আগে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজ আদায় করা সুন্নত।
-
দুনিয়াবি কথা পরিহার: মসজিদে দুনিয়াবি আলোচনা, উচ্চস্বরে কথা বলা বা শোরগোল করা থেকে বিরত থাকা উচিত। মসজিদ আল্লাহর ইবাদতের স্থান, তাই এখানে শুধুমাত্র ইবাদত ও জিকিরে মগ্ন থাকা উচিত।
মসজিদে ইবাদতের বহুমুখী ভূমিকা:
মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; এটি ইসলামী জ্ঞানচর্চা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের কেন্দ্রস্থল। ইসলামের প্রাথমিক যুগে মসজিদে শিক্ষা, বিচার, পরামর্শ এবং অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
মসজিদে ইবাদত ও সময় কাটানো মুসলমানদের আধ্যাত্মিক উন্নতি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ উপায়। মসজিদের আদব ও শিষ্টাচার মেনে চলা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।