আজ রবিবার দিবাগত রাত পবিত্র শবে বারাআত।
হে আল্লাহ আপনি আমাদের উমনপুর গ্রামের সকল মানুষকে এই পবিত্র শবে বারাআতের উসিলায় আমাদের সবার গুনাহকে মাফ করে দিন। এই পবিত্র শবে বারাআতের উসিলায় উমনপুর গ্রামের সকল কবর বাসিকে কবরের আজাব থেকে মুক্তি দিন। আমীন ইয়া রাব্বুল আলামিন আমাদের দোয়াকে কবুল করুন এবং উমনপুর গ্রামের সকল কবর বাসিকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।
শবে বরাত, আরবি ভাষায় 'লাইলাতুল বরাত' (লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান) নামে পরিচিত, ইসলামের একটি পবিত্র রাত। এ রাতটি শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত, যা মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে এসেছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।
শবে বরাতে করণীয়:
১. নফল নামাজ আদায়: শবে বরাতে নফল নামাজ পড়া উত্তম। এই রাতে বিশেষ কোনো নির্ধারিত রাকআত বা নিয়ত নেই; অন্যান্য নফল নামাজের মতোই আদায় করতে হবে।
২. কোরআন তিলাওয়াত: শবে বরাতে কোরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এতে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত লাভ হয়।
৩. দোয়া ও ইস্তিগফার: এই রাতে আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং গুনাহ মাফের জন্য ইস্তিগফার করা বিশেষভাবে উল্ল্যেখযোগ্য। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা এই রাতে তার বান্দাদের গুনাহ মাফ করে দেন।
৪. রোজা রাখা: শবে বরাতের পরদিন রোজা রাখা মুস্তাহাব। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'শাবান মাসের ১৫তম রাত তোমাদের সামনে এসে গেলে, তোমরা সে রাতে নামাজ পড় এবং পরবর্তী দিনে রোজা রাখ।'
৫. কবর জিয়ারত: শবে বরাতে কবর জিয়ারত করা এবং মৃতদের জন্য দোয়া করা বিশেষভাবে উল্ল্যেখযোগ্য। তবে এটি ব্যক্তিগতভাবে, নিরবভাবে করা উচিত; কোনো ধরনের শোরগোল বা অপ্রয়োজনীয় কার্যকলাপ পরিহার করা উচিত।
শবে বরাতে বর্জনীয়:
-
অতিরিক্ত খাদ্য প্রস্তুতি: শবে বরাতে বিশেষ কোনো খাদ্য প্রস্তুত করা বা বিতরণ করা ইসলামে নির্ধারিত নয়। এ ধরনের কার্যকলাপ বিদআত হিসেবে বিবেচিত।
-
আতশবাজি ও আলোকসজ্জা: শবে বরাতে আতশবাজি বা অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা করা ইসলামে অনুমোদিত নয়। এ ধরনের কার্যকলাপ অপচয় এবং বিদআত হিসেবে বিবেচিত।
শবে বরাতে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত লাভের জন্য নির্ধারিত আমলগুলো পালন করা উচিত এবং অপ্রয়োজনীয় কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা উচিত।